ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সদস্য আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। সাভার মডেল থানায় দায়ের করা এই মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে একদল যুবকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় এসবি সদস্য আলতাব হোসেনের। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে উদ্দেশ্য করে নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালায়। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে এসে মারাত্মকভাবে আহত হয় তার ছোট ছেলেও। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি পুলিশ সদস্য আলতাবের। নিহত আলতাব হোসেনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগীর স্ত্রীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। গাড়ির দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সরাসরি হামলায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত জহিরুলকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনতিবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
Leave a comment