রাশিয়া, সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাস জোটের অন্তত সাতটি দেশ অনলাইনে এক বৈঠকে অংশ নিয়ে দৈনিক তেল উৎপাদন কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাজারের চলমান অস্থিরতা মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল বৈঠকে রাশিয়া ও সৌদি আরবের পাশাপাশি অংশ নেয় আলজেরিয়া, ইরাক, কাজাখস্তান, ওমান ও কুয়েত। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী জুন মাসে জোটভুক্ত ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলো মিলিয়ে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করা হবে।
তবে বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সদস্যপদ বা তাদের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এএফপিকে বলেন, আমিরাতের অবস্থান নিয়ে নীরবতা মূলত জোটের ভেতরের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না, কারণ বাস্তবে সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো জটিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে উৎপাদন কোটা বাড়ানো হলেও বাস্তবে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে। কারণ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি বর্তমানে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওপেক প্লাস এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতার বার্তা দিতে চাইলেও বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
Leave a comment