মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই প্রস্তাবে মূলত তিনটি ধাপে যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে রূপ দেওয়ার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলকেও আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবের প্রথম ধাপে হরমুজ প্রণালি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থাকা মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান নিজ উদ্যোগে পেতে রাখা মাইন অপসারণের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষে ইরান পুনরায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে। তবে এটি হবে “জিরো-স্টোরেজ” নীতির অধীনে, অর্থাৎ কোনো ধরনের মজুত না রেখে সীমিত পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা চালাবে না এবং বিনিময়ে তারাও ইরানের ওপর সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকবে।
এছাড়া ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ভেঙে ফেলার দাবি এই প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করার শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবের তৃতীয় ধাপে আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে ইরান তার আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে কৌশলগত সংলাপ শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়।
Leave a comment