“শুক্রবার মেহেদি নামের ওর এক রুমমেট কল দিয়ে বলে—রাতে পার্টি হবে, দ্রুত চলে আয়।” সহপাঠী ও রুমমেটের এই সামান্য আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে খুলনায় ফিরেছিলেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন (২৩)। কিন্তু সেই পার্টি ছিল মূলত এক নির্মম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ফাঁদ। মেসের চারতলায় ডেকে এনে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে এবং ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে শেষপর্যন্ত তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে নিহত আজমুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের মাতম ও শোকার্ত মানুষের ঢল। বড় ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা আসমা বেগম ও বাবা কুতুব উদ্দীন।
স্বজন ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে দর্শনার বাসা থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন আজমুল। রাত সাড়ে ৮টায় পরিবারের সাথে তাঁর স্বাভাবিক কথা হয়। তবে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আজমুলের নিজের নম্বর থেকেই একটি ফোন আসে তাঁর বাবার কাছে। ওপাশ থেকে আজমুলের আকুতি শোনা যাচ্ছিল—”আব্বু, এরা আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারছে!” ঠিক তখনই মেহেদী নামে তাঁর এক রুমমেট ফোনটি কেড়ে নিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করে এবং রাতারাতি টাকা নিয়ে খুলনায় না পৌঁছালে আজমুলকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দীন বলেন, “ফোন পাওয়ার পরই আমি গভীর রাতে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হই। শনিবার ভোর ৬টায় ইসলামনগরের সেই মেসে পৌঁছানোর পর স্থানীয়রা জানান আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করে চারতলা ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা বলে চালানো যায়।”
মা আসমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের শরীরজুড়ে মারাত্মক নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। পা দুই জায়গায় ভাঙা, রড দিয়ে কানে ও মাথায় আঘাত করা হয়েছে এবং সমস্ত শরীরের চামড়া তুলে ফেলা হয়েছে। তারা অপবাদ দিচ্ছে সে নাকি চুরি করে ভাত খেয়েছে! কিন্তু আমার ছেলে কোনোদিন ১০ বেলা না খেয়ে থাকলেও এমন কাজ করার মতো ছিল না।”
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনের ইসলামনগর রোডের একটি মেসে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আজমুল নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পাশাপাশি টিউশনি করতেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে খুলনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
Leave a comment