রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন সূরা আলে ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াতের অর্থ তুলে ধরে এর বাছাইকে ‘মারাত্মক’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে আয়াতটির তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘আজকে হাসিনার কষ্ট হবে।’
সূরা আলে ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহর কাছে রাষ্ট্রক্ষমতা দেওয়া ও কেড়ে নেওয়া, মর্যাদা দেওয়া ও লাঞ্ছিত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আয়াতটির অর্থ উদ্ধৃত করে মারদিয়া মমতাজ লিখেছেন, ‘হে আল্লাহ! বিশ্ব–জাহানের মালিক! তুমি যাকে চাও রাষ্ট্রক্ষমতা দান করো এবং যার থেকে চাও রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নাও। যাকে চাও মর্যাদা ও ইজ্জত দান করো এবং যাকে চাও লাঞ্ছিত ও হেয় করো। কল্যাণ তোমার হাতেই নিহিত। নিঃসন্দেহে তুমি সবকিছুর ওপর শক্তিশালী।’
আয়াতটি বাছাইয়ের প্রসঙ্গে মারদিয়া মমতাজ লিখেছেন, ‘আয়াতের বাছাই মারাত্মক। আজকে হাসিনার কষ্ট হবে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতাও ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি লেখেন, নির্বাচনের একজন প্রার্থী সংসদ সদস্য হওয়ায় ভোট দিতে এসেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অধিবেশন কক্ষে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মুখোমুখি দুটি চেয়ারে বসেছিলেন। ভোট গ্রহণের সময় সংসদ সদস্যরা একে একে ভোট দেন।
মারদিয়া মমতাজ আরও লিখেছেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার ভোট দেওয়ার জন্য সেখানে আসেন এবং তিনি নিজেও ভোট দিয়েছেন। ব্যালটের ছবি প্রকাশ করা ঠিক হবে কি না, সে বিষয়ে নিজের সংশয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মারদিয়া মমতাজ লিখেছেন, ‘অদ্ভুত এক অনুভূতি হচ্ছে। যে কালো অধ্যায় পেরিয়ে আমরা এসেছি, তার জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। সামনে আরও মেলা পথ বাকি।’
১৯৭৫ সালের পর দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পরবর্তী সময়ে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, ‘আমরা সে পথ পেরিয়ে এসেছি হয়তো মাত্র দুই বছরে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর কাছে চাই, আমাদের আবু সাঈদদের যেন তিনি এ খবর পৌঁছে দেন। আর যেটুকু পথ বাকি সেটাও যেন দৃঢ়তার সঙ্গে পার হতে পারি।’
এরপর ভোট জমা দিতে যাওয়ার কথা জানিয়ে পোস্টটি শেষ করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।
Leave a comment