ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মধ্যে চারজনের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তাঁরা হলেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছেলে শর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেন।
নিহত দেবাশীষ দত্ত দৈনিক আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এতে শিশুসহ নয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের ওই চারজন ছিলেন।
নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বয়স ৩৯ বছর। তিনি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার দিলীপ দত্তের ছেলে। তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীনের বয়স ২৭ বছর, ছেলে শর্ণশীষ দত্তের বয়স ৩ বছর এবং শ্বশুর আকরাম হোসেনের বয়স ৬০ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য ৩ আগস্ট স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ। তাঁর সাত বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত কুষ্টিয়ার বাড়িতেই ছিল। দুই দিন পর দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেনও ভারতে যান।
পরিবারটি প্রথমে কলকাতায় দুই দিন অবস্থান করে। পরে স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যায়। চিকিৎসা শেষে সোমবার রাত ১১টার দিকে উড়োজাহাজে কলকাতায় ফেরেন তাঁরা। এরপর নিউমার্কেট এলাকার ওই আবাসিক হোটেলে ওঠেন।
বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর পান দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের লাশের ছবিও দেখেছেন তিনি।
দিলীপ দত্ত বলেন, ‘দেবাশীষের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েকে বাড়িতে রেখে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সে ভারতে গিয়েছিল। আজ সকালে জানতে পারি, অগ্নিকাণ্ডে তারা সবাই মারা গেছে।’
দেবাশীষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সকাল থেকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাড়িতে স্বজন, বন্ধু, সাংবাদিক ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন। ছেলেকে হারিয়ে তাঁর মা স্বপ্না দত্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, ‘আমার দেবা (দেবাশীষ) একটু পরই বাড়িতে আসবে। এত দেরি করছে কেন? রাতে বলেছিল, ব্যাগ গোছাচ্ছে। সকালেই রওনা দেবে বাড়ির উদ্দেশে।’
Leave a comment