মাদক নির্মূলে কেবল আইনি অভিযান বা জেলেই সমাধান নয়, বরং অপরাধীদের মানসিক ও নৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। একাধিক মাদক মামলার আসামিকে জেলে পাঠানোর বদলে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠিয়ে তাদের আত্মশুদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে এ অভিনব উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কচুয়া থানার ওসি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের শাহজালাল ও হেলাল নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্ত হয়ে তারা পুনরায় মাদক চালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ছিল।
অপরাধের এই চক্র থেকে তাদের স্থায়ীভাবে বের করে আনতে এলাকাবাসীর সহায়তায় দুই ব্যক্তিকে থানায় ডেকে আনেন ওসি আজিজুল ইসলাম। সেখানে তাদের আইনি জবাবদিহির পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তিন দিনের জন্য তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।
তিন দিনের আত্মশুদ্ধির যাত্রা শেষে মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায় করে তারা পুনরায় কচুয়া থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে কখনো মাদক ব্যবসা কিংবা সেবনের সঙ্গে না জড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ফিরে আসা শাহজালাল ও হেলাল বলেন, “আমরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছি। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এখন থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করব এবং প্রতি মাসে অন্তত তিন দিন তাবলিগে সময় দেওয়ার চেষ্টা করব। সমাজ ধ্বংসকারী মাদকের পথে আর কখনো পা বাড়াব না।”
এ বিষয়ে কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, “শুধু মামলা ঠুকে বা গ্রেফতার করে দীর্ঘমেয়াদে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের মানসিক পরিবর্তন জরুরি। আমরা চাই তারা সত্যিকারের ভালো মানুষ হয়ে মূলধারার সমাজে ফিরে আসুক।”
পুলিশের এমন উদ্ভাবনী ও মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহলে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, শাস্তির পাশাপাশি পুনর্বাসন ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে অপরাধ দমনে তা দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
Leave a comment