আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে ফের ভয়াবহ সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে একযোগে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং আটটি তেলবাহী ট্যাংকারসহ মোট ১০টি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় ভয়াবহ এই যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার অকেজো হয়ে পড়ে। মূলত সেই মার্কিন হামলার কড়া জবাব দিতেই হরমুজ প্রণালিতে পাল্টা এই হামলা চালানো হয়। এর আগে গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর একই অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর আরও দুটি শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছিল ইরানি বাহিনী। তবে বুধবার রাতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আটটি তেলের ট্যাংকার কোন কোন দেশের, তা তাৎক্ষণিকভাবে খোলসা করেনি আইআরজিসি।
এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ইরানি হামলায় ‘হারকিউলিস স্টার’ নামের একটি আন্তর্জাতিক জাহাজের এক নাবিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরাকের বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, তাঁদের ‘নিউ আন্দ্রোস’ নামের একটি সুপারট্যাংকার ইরানি ড্রোনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহী ওই বিশালাকার জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও সৌভাগ্যবশত এর ২২ জন নাবিকের সকলেই অক্ষত অবস্থায় বেঁচে ফিরেছেন।
হরমুজে সংঘাত ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় ওয়াশিংটনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, মার্কিন নৌঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজে ইরানের আক্রমণের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে এবং এর জবাবে মার্কিন বাহিনীও ইরানি ট্যাংকার ধ্বংসের নীত গ্রহণ করেছে। ইরান যদি অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ না করে, তবে সমুদ্রে তারা নিজেদের সমস্ত বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ হারাবে বলে কড়া হুঙ্কার দেন তিনি। হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুপক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।
Leave a comment