নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত শুভ ওরফে বিল্লাল নামে এক যুবকের ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্যের নিয়ম নিয়ে মা ও বাবার মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের দাবি, শুভ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তাই তাঁকে শরিয়াহ মোতাবেক দাফন করতে হবে। অন্যদিকে বাবা হরি চন্দ্র দাসের মতে, শুভ জন্মসূত্রে হিন্দু হওয়ায় তাঁর দেহ সনাতন রীতিতেই সৎকার করা বাধ্যতামূলক। মা-বাবার চরম বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও নিহতের শেষকৃত্য সম্পন্ন হতে পারেনি।
মরদেহের ধর্মীয় পরিচয় জটিলতায় লাশটি প্রথমে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় রাখা হলেও পচন রোধে পরবর্তীতে তা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। শেষকৃত্যের অধিকার কার—তা নির্ধারণের বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আদালতে এ সংক্রান্ত আইনগত শুনানির কথা রয়েছে। আদালত আইনি নথি ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান জানান, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা আয়েশা বেগমের ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর শুভ তাঁর মা ও ভাইয়ের সাথে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। সরকারি হলফনামার মাধ্যমে শুভ ‘বিল্লাল’ নাম গ্রহণ করেন, মুসলিম মেয়ে জ্যুথিকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের এক সন্তান রয়েছে। এমনকি শুভর ভাই ইব্রাহিম নিশ্চিত করেন যে, তারা দুই ভাই সুন্নতে খাৎনা সম্পন্ন করে স্থানীয় মাদরাসায় অধ্যয়ন করেছেন। কিন্তু পিতা হরি চন্দ্র দাস নিজের পারিবারিক সূত্রে সনাতন রীতিতে ছেলে দাহ করার দাবিতে অনড় থাকায় বিবাদ গড়িয়েছে আদালতে।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া হকার্স মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় শুভকে গুলি ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইতিমধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ইয়াবা সংক্রান্ত ব্যবসায়িক অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে শুভকে হত্যা করা হয়। আদালতের চূড়ান্ত সৎকার রুলিংয়ের দিকেই এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে উভয় পরিবার।
Leave a comment