লেবাননে গত ২ মার্চ থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০০ শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও শিশুদের ওপর সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা থামছে না। ইউনিসেফের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহেই দেশটিতে অন্তত ৫৯ জন শিশু হতাহত হয়েছে, যা চলমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং শিশুদের জন্য বিদ্যমান চরম ঝুঁকির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত লেবাননে ২০০ শিশু নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৮০৬ জন শিশু আহত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন শিশু হতাহত হচ্ছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, যে সময়ে শিশুদের স্কুলে থাকার বা বন্ধুদের সঙ্গে খেলার কথা, সেই সময়ে তারা বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং স্বজন হারানোর মতো ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুধু সরাসরি হামলাই নয়, ক্রমাগত বোমাবর্ষণ ও উচ্ছেদের ফলে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার শিশু তীব্র মানসিক সংকটে ভুগছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জন্য ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, প্রায় এক মাস আগে অস্ত্র বিরতি ও সহিংসতা বন্ধের একটি চুক্তি হলেও বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। অব্যাহত হামলা শিশুদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে এবং তাদের অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ফেলছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
লেবাননের সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে মোট ২,৮৯৬ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৮,৮২৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে ১৭ মে পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো থাকলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
Leave a comment