বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টার বয় ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলা এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। সাকিবের দাবি, মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি পক্ষ তার কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিল।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলায় আসামী করা হয় সাকিব আল হাসানকে। এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, “বলা হয়েছে এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে।” তবে এই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি। তার মতে, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নয়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে। কেন আমি টাকা দেব? শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না।”
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডার দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা না থাকলেও দুটি বিষয় তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশত্যাগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। গ্রেপ্তারের চেয়েও ‘মব জাস্টিস’ বা ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে বেশি শঙ্কিত তিনি। সাকিবের ভাষ্য, “অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় অন্তত এমন একটা জায়গা থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে।”
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলেও সাকিব বিশ্বাস করেন তিনি এখনো জাতীয় দলে অবদান রাখার সক্ষমতা রাখেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজেকে প্রমাণ করতে তিনি উন্মুখ। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি বলেন, “সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। এক-দুটি সিরিজ খেললেই বোঝা যাবে আমি এবং দল কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।”
রাজনীতিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে সাকিবের কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি মনে করেন, একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং জনগণের সেবা করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই সেবার বদলে সুবিধা নিতে আসেন বলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তবে পরিবর্তনের জন্য রাজনীতিই একমাত্র পথ।
সাকিবের এই সাক্ষাৎকার দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মামলা নিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগটি আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
Leave a comment