মৌলভীবাজারের বড়লেখা, শ্রীমঙ্গল ও সদর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় একদিনে চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে রয়েছে আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা।
গত বুধবার দিনভর এসব ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বড়লেখায় ময়না গঞ্জু (৩৬) নামে এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে পাথারিয়া চা বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ময়না পাথারিয়া চা বাগানের মিঠাইলাল গঞ্জুর মেয়ে এবং কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল চা বাগানের বাসিন্দা সুকিন্দর গঞ্জুর স্ত্রী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে সুকিন্দর গঞ্জুর সঙ্গে ময়নার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে কোনো সন্তান না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায় এক বছর আগে ময়না বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এর আগে থেকেই বরমচাল এলাকার বিশ্বজিৎ গঞ্জুর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। সম্প্রতি বিশ্বজিৎ অন্যত্র বিয়ে করলে ময়না মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বুধবার সকালে স্বজনরা রান্নাঘরের তীরের সঙ্গে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বড়লেখা পৌর শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় লিটন মিয়া (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। নিহত লিটন উপজেলার তেলিগুল গ্রামের ফুলু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ বাজার এলাকার সাফরন রেস্টুরেন্টের সামনে ঢাকাগামী সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান একটি পালসার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী লিটন মিয়া ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের রাজাপুর এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে মাহমুদ নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত প্রায় ৮টার দিকে থানাপুলিশ হাওর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মাহমুদ উপজেলার সিরাজনগর এলাকার বক্স বাড়ির আসকর আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মাছ ধরতে হাওরে যান মাহমুদ। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে হাইল হাওরের রাজাপুর অংশে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
এদিকে মৌলভীবাজার শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার একটি বাসা থেকে শুক্লা সেন (২৪) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা তার কক্ষের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ দেখে সন্দেহ করেন। পরে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
শুক্লা সেন কমলগঞ্জ উপজেলার তিলকপুর গ্রামের অঞ্জন সেন ও লক্ষী রানী সিনহা দম্পতির বড় মেয়ে। তিনি মৌলভীবাজার আধুনিক চক্ষু হাসপাতালের রিসিপসনিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং চাকরির সুবাদে শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার ওই বাসায় একাই থাকতেন।
সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
Leave a comment