ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বাড়াতে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া বিলটিতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এএফপি, রয়টার্স ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। তবে কংগ্রেসের গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে সেপ্টেম্বরের শুরুর আগে সেখানে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বিলটি কার্যকর হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা চীন ও ভারতসহ অন্তত পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্কের মুখে পড়তে পারে। সম্ভাব্য তালিকায় আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার মতো দেশও রয়েছে।
একই সঙ্গে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত গোপন সামুদ্রিক নেটওয়ার্কগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
চাপে ভারত
বিলটি ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চীনের পর ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত বছরের আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে এর পাশাপাশি আরও সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে থাকবে।
সিনেটে বিলটি পাসের আগে রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিশ বলেন, এই উদ্যোগ রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, এর ফলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের প্রবাহে বড় ধরনের আঘাত আসবে।
জেলেনস্কির স্বাগত
বিলটি পাস হওয়ার পর স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, রাশিয়ার ওপর শক্তিশালী মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞাই যুদ্ধ বন্ধে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করবে। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের পাশাপাশি দেশটির জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
বিলটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন। গত ১১ জুলাই তাঁর মৃত্যুর পর বিলটি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়।
গ্রাহামের আসনে দায়িত্ব পাওয়া তাঁর বোন ডারলাইন গ্রাহাম নর্ডোন বলেন, এই বিল পুতিনকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করবে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিনও বিলটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি পুতিনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের সমর্থিত চাপের একটি স্পষ্ট বার্তা।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইয়েনও বিলটি পাসের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রতিনিধি পরিষদে আপত্তি
তবে প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন সদস্য বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিক্স ও ডন বেয়ার বলেন, নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দিতে পারে। তাঁদের মতে, শুক্রবার সিনেটে পাস হওয়া বিলের বর্তমান রূপ গ্রহণযোগ্য নয়।
ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাসও বিলটির বিরোধিতা করেছে। গত মাসে দেওয়া এক বিবৃতিতে দূতাবাস সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি সংকট ও গ্যাসের দাম বাড়ার পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স, আল-জাজিরা ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
Leave a comment