মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের জিম্মি করে টাকা দাবি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক সিনিয়র সহকারী কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কারারক্ষীর নাম রাসেল (ব্যাচ নম্বর ১৮৭২)। বন্দীদের কাছে তিনি ‘সিআইডি রাসেল’ নামে পরিচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বন্দী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, টাকা না দিলে খাবার বন্ধ করে দেওয়া, মারধর এবং অতিরিক্ত খাটুনির হুমকি দেওয়া হয়।
কারাগারের মূল প্রতিপাদ্য ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগে এর বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। কয়েকজন কারাবন্দী গোপনে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে অভিযোগ করেছেন, সামান্য কথা-কাটাকাটিতেও ওই কারারক্ষী তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। টাকা দিলে তাঁর আচরণ স্বাভাবিক থাকে। টাকা না দিলে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
এক বন্দীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের স্বজনেরা ভেতরে বিন্দুমাত্র নিরাপদ নন। ওই কারারক্ষী নিয়মিত টাকা চান। টাকা না পাঠালে খাবার বন্ধ করে দেওয়া, মারধর করা ও কঠিন কাজের ভয় দেখানো হয়। বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে টাকা পাঠাতে হচ্ছে।’
অভিযোগ ওঠার পর কারাগারের সাধারণ বন্দীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্বজন। তাঁদের অভিযোগ, নির্যাতন থেকে বাঁচতে অনেকে পরিবারকে চাপ দিয়ে টাকা এনে অভিযুক্ত কারারক্ষীকে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাটিকে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কারাগারে বন্দীদের নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, ‘কারাগারের ভেতরে বন্দীদের ওপর নির্যাতন বা অর্থ দাবির কোনো সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে বা তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a comment