রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির পরনের শার্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দিন মরদেহ উদ্ধারের সময় এক পুলিশ কর্মকর্তার গায়ে থাকা শার্টের সাথে গ্রেপ্তারকৃত এক আসামির পরিহিত শার্টের হুবহু মিল দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল তোলপাড় শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, মরদেহ উদ্ধারের দিন মাস্ক পরিহিত এক পুলিশ কর্মকর্তা যে পোশাক পরে ঘটনাস্থলে তদারকি করছিলেন, পরবর্তীতে ধৃত আসামিকেও ঠিক একই ডিজাইনের শার্ট পরা অবস্থায় ক্যামেরায় দেখা যায়। আসামি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পোশাকের এমন অদ্ভুত মিলকে কেন্দ্র করে নেটিজেনরা ঘটনাটিকে ‘রহস্যজনক’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। এটি কেবলই কাকতালীয় ঘটনা নাকি তদন্তকে অন্য খাতে মোড় ঘোরানোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিতর্কিত এই বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা সংক্ষেপে জানান, “একই ধরনের শার্ট পৃথক দুজন মানুষ পরতেই পারেন।”
এদিকে মামলার এজাহার ও আসামীদের ছাদ দিয়ে প্রবেশের বিবরণ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। পাশেই ফাঁকা নির্মাণাধীন ভবন থাকা সত্ত্বেও কেন আসামীরা ওই নির্দিষ্ট বাড়িতেই ইয়াবা সেবন করতে গেল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বিষয়টিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ইতোমধ্যে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামের দুই যুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেছে। তবে ঘটনাস্থল, উদ্ধার করা আলামত এবং পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি থাকায় পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন নিহতদের স্বজন ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
Leave a comment