যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শ্রিভেপোর্ট শহরে এক পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজ সাত সন্তানসহ মোট আট শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছেন শামার এলকিন্স নামে এক ব্যক্তি। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে এই নৃশংস ঘটনা ঘটছে। গুলিতে আহত হয়েছেন আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক, যাদের মধ্যে একজন হামলাকারীর সন্তানদের মা বলে জানা গেছে।
শ্রিভেপোর্ট পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র ক্রিস বোর্ডেলন জানান, রোববার ভোরে শহরের পৃথক দুটি বাড়িতে হামলা চালায় বন্দুকধারী এলকিন্স। নিহত শিশুদের বয়স ১ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ঘাতক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। দীর্ঘ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী শামার এলকিন্স নিহত হন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এলকিন্স। পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মামলা ছিল। তবে ঠিক কী কারণে তিনি নিজ সন্তানদের ওপর এমন নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালালেন, তা এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শ্রিভেপোর্টের মেয়র টম আর্সেনো একে ‘শহরের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শ্রিভেপোর্টের বাসিন্দা ও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে লিখেছেন, “এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবার এবং শ্রিভপোর্ট সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং স্থানীয় পুলিশের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।”
লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি ও তার স্ত্রী এই নৃশংসতায় গভীর মর্মাহত হয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সবশেষ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান ‘গান কালচার’ বা বন্দুক সহিংসতার ভয়াবহতাকে আবারও সামনে এনেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ১১৯টি বড় ধরনের গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৯ জন শিশুসহ অন্তত ১১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন চার শতাধিক মানুষ।
Leave a comment