সৌদি আরবের সংশোধিত পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলমানরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’—বাক্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন ও পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু সংস্কারের অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও ইহুদিদের নিয়ে ব্যবহৃত কিছু কঠোর ও নেতিবাচক বক্তব্যও পরিমার্জন করা হয়েছে।
শিক্ষাক্রম পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসইর (IMPACT-se) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই পর্যালোচনায় দেখা যায়, একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার বইয়ে থাকা ‘মুসলমানরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি তখনও ছিল।
পরবর্তী সংস্করণে বাক্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েল ও ইহুদিদের সম্পর্কে পূর্বে ব্যবহৃত কিছু কঠোর পরিভাষা ও বক্তব্য নমনীয় করা হয়েছে। ‘জিহাদ’ ও ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত কিছু বিষয়বস্তুও বিভিন্ন সংস্করণে পরিমার্জন বা বাদ দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
ইমপ্যাক্ট-এসইর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পাঠ্যক্রমে সামগ্রিকভাবে শান্তি, সহনশীলতা ও অন্যের প্রতি সম্মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল ও জায়নবাদের উপস্থাপনাতেও আগের তুলনায় পরিবর্তন এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে দেশটির সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের অংশ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রস্তুতির সঙ্গেও এসব পরিবর্তনের যোগসূত্র নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
তবে সৌদি আরবের পাঠ্যবইয়ে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত বিষয় এখনো রয়েছে। ইমপ্যাক্ট-এসইর সর্বশেষ পর্যালোচনায়ও বলা হয়েছে, সৌদি পাঠ্যক্রমে ইসরায়েলকে এখনো কিছু ক্ষেত্রে ‘ইসরায়েলি দখলদারিত্ব’ বা ‘ইসরায়েলি দখলদার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং মানচিত্রে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
Leave a comment