মাঝ আকাশে তীব্র ঝাঁকুনির কবলে পড়ে আকস্মিক নিচে নেমে আসা একটি যাত্রীবাহী বিমানের প্রধান পাইলটের ডোপ টেস্টে মাদকজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়ার দাবি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য জানালেও বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় দফায় নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
গত ৪ আগস্ট থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর ফুকেট থেকে ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু সদস্য নিয়ে উড্ডয়ন করেছিল এআই২৩৭৯
ফ্লাইটটি। উড্ডয়নকালে মাঝ আকাশে বিমানটি টানা প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে মারাত্মক ঝাঁকুনির শিকার হয় এবং আকস্মিকভাবে কিছুটা নিচে নেমে যায়। এতে অন্তত ১৩ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি সামলে শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
অবতরণের পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ফ্লাইটের প্রধান পাইলটের শারীরিক পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করা হয়। প্রাথমিক ডোপ টেস্টের ফলাফলে চিকিৎসকরা তাঁর শরীরে মনঃপ্রভাবক মাদকজাতীয় উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে গৃহীত সাধারণ কোনো ওষুধ সেবনের কারণেও এই ফলাফল পজিটিভ আসতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডোপ টেস্টের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত দায়িত্বরত দুই পাইলটকেই সমস্ত কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ঘটনা অনুসন্ধানে বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে এবং পর্যালোচনার জন্য বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার জব্দ করা হয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আকাশে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানে ক্রু সদস্যদের অনিয়মিত ডোপ টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক। কোনো বিমানচালকের রক্তে প্রথমবারের মতো মাদক পাওয়া গেলে তাঁকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে নেগেটিভ সনদ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর ফ্লাইটে ফেরার সুযোগ থাকে না। পুনঃপুনঃ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে লাইসেন্স বাতিলের কঠোর আইনি বিধান রয়েছে।
Leave a comment