ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ইফতেখার অনিক (৩৩) নামের এক যুবকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে ইফতেখারকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মো. নাফিউল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইফতেখার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ইকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। ‘ইফতেখার অনিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে—এমন পোস্ট ও মন্তব্য করা হচ্ছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ আগস্ট বিষয়টি বাদী মো. আরিফুজ্জামানের নজরে আসে। তিনি স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ইফতেখারের বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাঁদের সামনে ধর্মীয় বইপুস্তক ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর সেখান থেকে তিনি পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে গত ২৮ আগস্ট দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। পরদিন রাতে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় ইফতেখারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইফতেখার ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে নিজ বাড়ি থেকে একটি স্মার্টফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানতে ইফতেখারের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
Leave a comment