যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা ও উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ওয়াশিংটনকে তীব্র ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রশাসন নিজেদের তৈরি ‘জাহান্নামের গভীরতা থেকে পালাতে পারবে না’। যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধের সমান্তরাল মোকাবেলায় ইরানের গৃহীত ‘নতুন কৌশল’ যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিমূল নাড়িয়ে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় রেজাই স্পষ্ট জানান, সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনী ‘বড় ও শক্তিশালী’ হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের মূল রুট হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক মাইন স্থাপনের চেষ্টা করছিল ইরানি বাহিনী, আর তারই জবাব হিসেবে এই বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ওই অঞ্চলে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনীর ওপর আইআরজিসির সম্ভাব্য ঝুঁকি নস্যাৎ করতেই তাদের এ অভিযান। ট্রাম্প আরও জানান, জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ছোঁড়া ইরানের আটটি ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরান স্পষ্ট করেছে, তারা নিজেদের আত্মরক্ষার স্বাভাবিক অধিকার থেকেই জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরাকের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা পরিচালনা করেছে।
একইসঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কোনোভাবেই যেন তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসন চালাতে না পারে। দুই দেশের এমন প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাত ও হুমকি-পাল্টা হুমকিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধ আতঙ্ক বিরাজ করছে।
Leave a comment