মোহাম্মদ ইউনুছ অভি, টেকনাফ
বিশ্ব শরণার্থী দিবস আজ (২০ জুন)। দিবসটি পালিত হলেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে গত নয় বছরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা লাখো রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ফলে টেকনাফ ও উখিয়ার সামাজিক কাঠামো, অর্থনীতি ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক পাচার, মানবপাচার ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখনো উদ্বেগের বিষয়। তবে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২৩ সালে ৬৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও ২০২৪ সালে তা ৪৯টিতে এবং ২০২৫ সালে ৩৫টিতে নেমে আসে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৬টি।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নিরীহ। তবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই অনেক অপরাধের সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদারে নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি এ সংকট নিরসনে দ্রুত ও টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a comment