বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবস্থানের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বিএনপির মুখে জুলাই থাকলেও তাদের অন্তরে রয়েছে আওয়ামী লীগ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপির এমন দ্বিমুখী অবস্থান দেশের মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে বিএনপিতে দুটি ধারা দৃশ্যমান। একটি ধারার নেতা-কর্মীরা বিগত দেড় থেকে দুই দশক আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হয়েছেন। অন্য ধারার লোকজন ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসনাতের অভিযোগ, এই দ্বিতীয় ধারার লোকজন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ‘মামলা বাণিজ্য’ করছেন।
মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে না জানিয়ে দুই থেকে আড়াই শ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে গণহারে মামলা করা হচ্ছে। পরে আসামিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে আপস করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত অপরাধী ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে মামলার গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও জুলাই গণহত্যার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলাগুলোর কতটিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্র দেওয়া হলে মামলা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে—এ কারণেই তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল ও সিএনজি স্ট্যান্ড দখল এবং সারের ডিলারশিপের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে একটি পক্ষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জুলাই গণহত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। অন্যথায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আঁতাতের দায় বিএনপিকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
Leave a comment