Home সাম্প্রতিক প্রকাশ্যে এলো রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারী সোহেলের যত অপকর্ম
সাম্প্রতিক

প্রকাশ্যে এলো রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারী সোহেলের যত অপকর্ম

Share
Share

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানার অতীত জীবনের নানা অপরাধ ও অপকর্মের তথ্য সামনে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় আসার আগে গ্রামে থাকতেই মাদক ও অনলাইন জুয়ায় মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিল সোহেল। জুয়ার কারণে বিপুল অঙ্কের ঋণে জর্জরিত হয়ে একপর্যায়ে সে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

এছাড়া পারিবারিক ও নৈতিক স্খলনের নানা অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবশেষ পল্লবীর একটি সাবলেট বাসায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রামিসার হত্যাকারী সোহেল রানার মূল বাড়ি নাটোরের মহেশচন্দ্রপুর এলাকায়। সেখানে সে রিকশা মেরামতের কাজ করত। প্রায় ১০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করা সোহেলের সেই সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। তবে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে।

ঈদের ছুটিতে বিশেষ সময়সূচিতে চলবে মেট্রোরেল
এরপর বছর তিনেক আগে পাশের গ্রামে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। তবে মাদক, জুয়া আর ঋণের কারণে পরিবারের চাপে শেষ পর্যন্ত এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় সে।

সোহেল রানার ছোট বোন জলি বেগম জানান, মাদক ও জুয়াসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার কারণে বছর তিনেক আগেই তাকে পরিবার থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।

নাটোর থেকে ঢাকায় এসে মিরপুরের পল্লবীতে একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতে শুরু করে সোহেল ও তার স্ত্রী। ওই বাসার কেয়ারটেকার মনির জানান, পরিচিত দুজনের সুপারিশে প্রথমে সোহেলকে নিজের গ্যারেজে মিস্ত্রি হিসেবে কাজ দিয়েছিলেন তিনি।

তবে ১৫ দিনের মাথায় কাজে নিয়মিত ফাঁকি দেওয়ায় তাকে গ্যারেজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মাসুদের দাবি, কেয়ারটেকারের অনুরোধেই সোহেলকে বাসায় সাবলেট দিয়েছিলেন তিনি।

জানা গেছে, ঢাকায় সোহেল রানার থাকা এবং কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল তাদের একই গ্রামের সাদ্দাম ও হানিফ নামের দুই ব্যক্তি, যাদের সুপারিশ করেছিলেন কামাল নামের আরেক গ্রামবাসী।

পল্লবীর এই ফ্ল্যাটে ওঠার আগে সাদ্দামের মাধ্যমে বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসায় সাবলেট নিয়েছিল সোহেল রানা ও তার স্ত্রী। তবে সেখানে নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করার কারণে বাড়ির মালিক তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন।

ওই বাড়ির মালিক জানান, তার বাসায় দুই মাস থাকার সময় সোহেলের ইয়াবাসক্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে তারা তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন। গ্রাম থেকে ঢাকা—সবখানেই মাদকের অন্ধকার জগৎ ও অপরাধপ্রবণতায় নিমজ্জিত থাকা এই সোহেল রানাই শেষ পর্যন্ত পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে বলী বানায়।

আরটিভি/এসআর

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ওমান থেকে কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন চার ভাই, পাশাপাশি দাফন আজ

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। কফিনবন্দী অবস্থায় তাদের মরদেহ মঙ্গলবার দেশে আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে...

গাইবান্ধায় ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা আটক

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ইয়াবা বিক্রির সময় ফিরোজ কবির নামে এক বিএনপি নেতাকে হাতে-নাতে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার গুনভরি এলাকা...

Related Articles

রমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে; দাবি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড...

ডাকাতেরা যখন মুখ চেপে ধরেছিল, তখন মনে মনে শুধু বলছিলাম, ‘আল্লাহ আমাকে অসম্মানিত কইরো না’

রাজধানীর একটি বাসায় ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় আহত হয়েছেন এক স্কুলশিক্ষিকা ও তাঁর...

পুলিশের ধাওয়ায় কারবারিদের ইয়াবা রাস্তায়, কুড়িয়ে নিলেন স্থানীয়রা

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী জাতীয় উদ্যান এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের ধাওয়ায় মাদক...

গাইবান্ধায় আকস্মিক ঝড়ে ৪৬৭ বস্তা সরকারি ভিজিএফ চালসহ দুই নৌকাডুবি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য নেওয়া...