মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় আসা এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ কার্টনে ভরে গ্রামে নিয়ে মাটিচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি অভিযুক্ত যুবক, নিহত শিক্ষার্থী জীবিত আছেন প্রমাণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও বানিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়ায় অভিযুক্ত যুবক আব্দুল্লাহ মামুনের (২৩) বসতভিটার মাটি খুঁড়ে কার্টন বন্দি অবস্থায় রাকিব ইসলাম (১৭) নামের ওই ভর্তিচ্ছুর গুম করা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাকিব টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হামনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের মো. খাদেমুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকার মিরপুর-১০ ও শেওড়াপাড়া এলাকায় কোচিং করতেন।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্র মতে, ঢাকায় কোচিং করার সুবাদে স্থানীয় আফছার আলীর ছেলে মামুনের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে রাকিবের। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় কোনো এক বিরোধকে কেন্দ্র করে রাকিবকে হত্যা করে মামুন। এরপর মরদেহ একটি বড় কার্টনে ভরে ঢাকার কল্যাণপুর থেকে রংপুরগামী দূরপাল্লার বাসে করে ডিমলায় নিয়ে আসে সে। পচা মাছ বা শুঁটকি আছে বলে পরিবারের অগোচরে নিজের বাড়ির উঠানে তা মাটিচাপা দিয়ে রাখে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আড়াল করতে এবং অর্থ হাতাতে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে রাকিবের আদলে এক অভিনব ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে সে। ভিডিওটি রাকিবের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে তাকে জিম্মি করার নাটক সাজিয়ে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়। সন্তানকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আকুলতায় পরিবারটি দাবি করা অর্থ পরিশোধও করে। পরবর্তীতে ঢাকা কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ।
গত ৩ অক্টোবর ঢাকা থেকে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডিমলায় তার বসতভিটায় অভিযান চালিয়ে মরদেহ পুঁতে রাখার স্থান শনাক্ত করা হয় এবং মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, কাফরুল থানায় দায়ের করা মামলার আলোকে আসামির তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে সহায়তা করেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অন্যান্যদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে পুলিশের গভীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Leave a comment