রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার দাবি করেছেন, যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান প্রথমে তাঁর মায়ের মৃত্যুর তথ্য অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করেন।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমডোর শফিকুল ইসলাম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রথমে আনিসুর রহমান বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঝামেলা এড়াতে মায়ের মৃত্যুর তথ্য অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন যে তাঁর মা মারা গেছেন।
আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি সচিবালয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া যায়নি।
এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
বুধবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে নিশ্চিত হতে হবে ঘটনাটি তাঁর মাকে কেন্দ্র করেই কি না। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
তিনি বলেন, দেশে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ–সংক্রান্ত আইন রয়েছে। প্রয়োজনে সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এ কে এম আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পাওয়ার পর নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরজাহান বেগম দীর্ঘদিন একা বসবাস করছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না বলেও স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে দীর্ঘদিন আলাদা থাকতেন। তাঁদের একজন এ কে এম আনিসুর রহমান, যিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত। অন্য ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। তাঁদের মেয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন বলে জানা গেছে।
Leave a comment