ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারসংলগ্ন দিঘি থেকে শেষ কুমিরটি উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছে বন বিভাগ। বুধবার দুপুরে কুমিরটিকে উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাড়ের একটি ছোট পুকুরে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বন বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে কুমিরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পর বেলা ১২টার দিকে বিশেষ গাড়িতে করে প্রাণীটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রাণীটির সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কুমিরটিকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দিঘিতে কুমিরের উপস্থিতি মাজারে আগত দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র ছিল।
বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে মাজার কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং প্রাণীবিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুমিরটিকে আপাতত খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হবে।
তবে মাজারের ঐতিহাসিক দিঘিতে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো কুমির অবমুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, কুমির অপসারণের ফলে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা বাড়বে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্যের অবসান হওয়ায় অনেকে আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দর্শনার্থীদের কাছে মাজারের দিঘির কুমির ছিল বিশেষ আকর্ষণের একটি অংশ।
এ অবস্থায় কুমিরশূন্য দিঘিকে ঘিরে ভবিষ্যতে কী পরিকল্পনা নেওয়া হবে এবং মাজারকেন্দ্রিক পর্যটনের আকর্ষণ ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের।
Leave a comment