মোঃ মাকসুদুর রহমান, শেরপুর
শেরপুরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির কারণে মানুষের প্রাণহানি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নালিতাবাড়ীর বন্যহাতি উপদ্রুত এলাকায় প্রথম পর্যায়ে ১৫টি আর্লি ডিটেকশন ডিভাইস (স্মার্ট ক্যামেরা) স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কের মহুয়া রেস্ট হাউস মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে এ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন এলায়েন্সের কমিউনিটি গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট আবরার আহমাদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি)-এর সদস্যবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বন্যহাতির অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর ফলে স্থানীয় জনগণ আগে থেকেই সতর্ক হতে পারবেন এবং হাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।
আলোচনায় হাতির চলাচলের প্রাকৃতিক করিডোর সংরক্ষণ, বন উজাড় রোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বন বিভাগের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সেমিনারের শেষে বন্যহাতি উপদ্রুত এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
Leave a comment