২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের নির্যাতনের ঘটনা আবারও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল এবং বিএনপির নারী সংসদ সদস্য মানসুরা আলমের বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও মাহিয়া মাহির বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করার অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরের পর। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পিয়া জান্নাতুল বলেন, একজন শিল্পী রাজনীতি করতে পারেন এবং এর ফলে সুবিধা-অসুবিধা দুটিই ভোগ করতে হতে পারে। তিনি জানান, কোনো শিল্পী বিপদে পড়লে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অন্য শিল্পীদের তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। একই সঙ্গে তিনি যেকোনো ধরনের ‘মব জাস্টিস’-এর বিরোধিতা করে বলেন, এমন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সবাইকে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
পিয়ার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির নারী সংসদ সদস্য মানসুরা আলম। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনের সময় নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী ও অভিনয়শিল্পীদের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, তখন কেন অনেক প্রভাবশালী শিল্পী নীরব ছিলেন। তিনি পোস্টে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের নাম উল্লেখ করে লেখেন, “জুলাইয়ে অংশ নেওয়া বাঁধন, কারিনা কায়সার, অন্যায়ভাবে জেলে অত্যাচারিত হওয়া কাজী নওশাবারা মেয়ে ছিল না? আমাদের মতো রাজনৈতিক মেয়েদের কথা বাদই দিলাম। কিন্তু শিল্পীদের জন্যও কি তখন কেউ মুখ খুলেছিল? নাটক কম করো।”
মানসুরার এই মন্তব্যের পর ২০১৮ সালের সেই বহুল আলোচিত ঘটনাটি আবারও সামনে চলে আসে। সে সময় একটি ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে কাজী নওশাবা আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি অভিযোগ করেন, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল।
এদিকে বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকের মতে, অতীতে নির্যাতনের শিকার শিল্পী ও সাধারণ মানুষের পক্ষে যারা নীরব ছিলেন, তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শিল্পী ও নাগরিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সবার একই অবস্থানে থাকা উচিত। ফলে নওশাবার পুরোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পী সমাজ, রাজনীতি এবং মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে জনমত ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
Leave a comment