এমরান হোসেন, জামালপুর
জামালপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পৃথক পৃথক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২), সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের হাওয়া বেগম (৩০), পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), গোলাপবাগ এলাকার সুমন মিয়া (৩৯) এবং কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯)। এরমধ্যে সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক।
এ ঘটনায় জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন- গ্রেপ্তারকৃতরা গত কমিটির পদে থাকা নেতা। তারা বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ নন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল এবং বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় প্রায় ৭ মাস ধরে বসবাস করছেন। তারা দুজন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক হিসেবে কর্মরত আছেন। গত ৩০ জুন ২০২৬ বিকেলে বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল তার স্ত্রী বিচারক জেনীকে মাদারগঞ্জ জামথল নৌকা ঘাটে রেখে আসতে যান। রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি মূল দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা শয়নকক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও হীরার আংটিসহ মোট ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে ওই ভবনের অন্য একটি বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বিচারকের বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির মূল পরিকল্পনা, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে চারজনের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে গৃহকর্মী নিলুফা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
Leave a comment