নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সহপাঠী বা কিশোর কর্তৃক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পর বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র (টিসি) পাওয়া সেই ছাত্রী অবশেষে শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে। দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে তাকে পুনরায় নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত রবিবার থেকে কাঁচপুর এলাকার ওই বিদ্যালয়ে পাঠদানে অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীটি। এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের কার্যালয়ে ডেকে পাঠান বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। সাক্ষাৎকালে তিনি ওই ছাত্রীকে কোনো ধরনের দ্বিধা বা ভয় ছাড়া নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। এতে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের একটি হাঁটার পথে (ওয়াকওয়ে) স্কুল পোশাক পরা এক ছাত্রীকে পেছন থেকে এক কিশোরের লাথি মারার ভিডিও ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েটি ঘটনার প্রতিবাদ জানালেও তাকে আবারও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে একটি সামাজিক বৈঠকে কান ধরে উঠবস করায়।
তবে ঘটনার পর সহানুভূতির বদলে উল্টো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেয়েটিকে স্কুলে যেতে নিষেধ করে এবং ছাড়পত্র (টিসি) ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ তোলে তার পরিবার। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ডেকে মেয়েটিকে অবিলম্বে স্কুলে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করলেও ভুক্তভোগীর পরিবার কোনো মামলা দায়ের করেনি। ফলে সমাজসেবা বিভাগের প্রবেশন কর্মকর্তার তদারকিতে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ওই শিক্ষার্থীর ওপর যেন কোনো ধরনের অন্যায় বা অবিচার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বজায় থাকবে।
Leave a comment