ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে তার মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের পর আরও তিন আসামির বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে একই মামলার আসামি ফাহিম, রাজীব ও এনামুলের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, সকালে স্থানীয় লোকজন মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে গিয়ে বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করেন। তবে হামলার আগেই শরীফের পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
পরে সন্ধ্যায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি চর কালিবাড়ি এলাকার ফাহিম ও রাজীব এবং আকন্দপাড়া এলাকার এনামুলের বাড়িতে স্থানীয় লোকজন আগুন দেন। আগুনে চারটি ঘর পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানান ওসি।
পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিতে এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
মামলার অভিযোগ
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে পাঁচ যুবক ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে পানি চান। একপর্যায়ে তাঁরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই নারী ও তাঁর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে জিম্মি করেন।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তাঁরা নগদ পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করেন। এরপর ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে চলে যান। এ ঘটনায় কাউকে কিছু জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরে তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন।
পরদিন ওই নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলায় শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজীব (২৩) ও এনামুলের (২২) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর শনিবার বিকেলে গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় লোকজন মানববন্ধন করেন। সেখানে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
ওসি মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, রাজীবকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
Leave a comment