নিজস্ব প্রতিবেদক
চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে ‘চীন–দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো ২০২৬’-এ ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বাংলাদেশ–চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌমত্ব, সমতা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণ যাতে সরাসরি উপকৃত হয়, সে লক্ষ্যে টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ তারই প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, ইউনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর লিউ ইয়াং, ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল লি ই, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের প্রেসিডেন্ট লিউ কী লিন।
এ সময় কুনমিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, মন্ত্রীর সফরসঙ্গী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এবং বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, কুনমিংয়ের মতো আতিথেয়তাপূর্ণ শহরে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন দুই দেশের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার প্রতীক। তিনি বাংলাদেশকে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ—সম্ভাবনার এক অনন্য ভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করে ইউনানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও পণ্য আমদানির আহ্বান জানান।
‘বাংলাদেশ ডে’ উপলক্ষে একই ভেন্যুতে ‘Bangladesh: Sourcing with Quality and Competitiveness’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। আলোচনায় অংশ নেন চীনে নিযুক্ত কমার্শিয়াল কাউন্সেলর, ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ–চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বাংলাদেশ ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, ‘১০ম চায়না সাউথ এশিয়া এক্সপো’ ও ‘৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি–রপ্তানি মেলা ২০২৬’ গত ১১ জুন শুরু হয়েছে, যা ১৬ জুন পর্যন্ত চলবে। আন্তর্জাতিক এ মেলায় বিশ্বের ৬৮টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় এবারের মেলায় বাংলাদেশের ১০১টি প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন, যা রেকর্ডসংখ্যক। বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ওষুধশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য এবং হস্তশিল্পসহ দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।
মেলার দ্বিতীয় দিনেও মন্ত্রী বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নসহ বিভিন্ন দেশের স্টল পরিদর্শন করেন।
Leave a comment