আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য এড়িয়ে এবার চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ানে’ ইরানের কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করেছে ভারত। আইসিআইসিআই (ICICI) ব্যাংকের মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জানা গেছে, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলো এই নতুন ‘পেমেন্ট মেকানিজম’ ব্যবহার করছে।
সূত্রমতে, ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ‘ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন’ (IOC) চলতি মাসের শুরুতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। প্রায় ২০ কোটি ডলার সমমূল্যের এই চালানের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে ইউয়ানে। একইভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজও ইরানি তেলের মূল্য পরিশোধে একই মুদ্রা ব্যবহার করছে। ভারতের আইসিআইসিআই ব্যাংক তাদের সাংহাই শাখার মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে গত মাসে বিশেষ পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন। এর আওতায় ইরান ও রাশিয়ার জ্বালানি তেল সমুদ্রে কেনাবেচার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে ভারত।
ইতোমধ্যেই রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য তেলবাহী চারটি জাহাজ ভারতের বন্দরে ভিড়েছে, যার মধ্যে ‘এমটি ফেলিসিটি’ নামক একটি জাহাজ থেকে তেল খালাস সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই লেনদেন ও পেমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে আইসিআইসিআই ব্যাংক, ইন্ডিয়ান অয়েল কিংবা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পেমেন্ট জটিলতার কারণে অনেক দেশ ইরানি তেল কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছিল না। ভারত চীনা মুদ্রায় লেনদেন করে সেই বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলেও এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত বুধবার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তেলের বাজারে অস্থিরতা কমাতে এই ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। ফলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই বিশেষ সুযোগ আজ রোববারই শেষ হতে যাচ্ছে। এরপর ভারত কীভাবে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
Leave a comment