নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষিত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এর আওতায় নেওয়ার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আর্থিক সংশ্লেষ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির ওপর নির্ভর করবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষামন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় তাঁর পক্ষে সংসদে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ওই বেতন স্কেলের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আর্থিক সংশ্লেষ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ প্রচলিত এমপিও নীতিমালা, সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও বরাদ্দ করা বাজেট অনুযায়ী দেওয়া হয়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ৩ শতাংশ সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে তিনি এ তথ্য জানান।
জয়নাল আবদিন জানতে চান, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যয় সহজলভ্য করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না।
জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৯(৪) অনুযায়ী প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসনের ৩ শতাংশ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়। এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় বিভিন্ন হারে বৃত্তি, শিক্ষাবৃত্তি এবং টিউশন ফি মওকুফ বা কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনের এ বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংরক্ষিত আসনে ভর্তি, ফি মওকুফ ও বৃত্তি প্রদানের তথ্য পরিবীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
একই সঙ্গে সুবিধাভোগী শিক্ষার্থী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যোগ্য শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য পৌঁছানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বৃত্তি ও ফি মওকুফসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Leave a comment