লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮৭ জন। দেশটির বিভিন্ন শহরে বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। পেরেইরা শহরে ১৮ জন এবং মানিজালেসে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
ভূমিকম্পের পর পেরেইরাসহ বিভিন্ন শহরে ভবন ধসে পড়েছে। বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানিজালেস, কিবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো, বুয়েনাভেনতুরা ও পেরেইরার বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
রাজধানী বোগোতাতেও ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। ভবনের অ্যালার্ম বেজে উঠলে আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তবে বোগোতার মেয়র কার্লোস ফার্নান্দো গালান জানিয়েছেন, রাজধানীতে বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা গেছে।
ভূমিকম্পের পর দুটি আফটারশক বা পরাঘাতও অনুভূত হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছে। দেশটির সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
Leave a comment