বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রংপুরে জামায়াতে ইসলামী বেশি আসন পাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এভাবে রংপুরের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা তাঁরা মেনে নেবেন না।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সামনে আর হাত বাড়াবেন না, পা বাড়াবেন না। পরিণতি ভালো হবে না। আপা যে পথে হেঁটেছেন, আপনিও সেই পথে হাঁটছেন। এভাবে চললে টিকে থাকতে পারবেন না।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারা যাবে, এ দেশে তাদের থাকা হবে না। ‘এই পথ পালানোর পথ। দেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মেনে নেবে না’—বলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, যুবকেরা এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে। বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে। যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে এখন ‘না’ বলছেন, তাঁরাও একদিন জনরোষের মুখে পড়বেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, জনতার রায়কে অগ্রাহ্য করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য একবার নয়, শতবার রাজপথে নামব।’
দুই শিবির কর্মী হত্যার সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতার লোভে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক, তাঁরা তা চান না। তিনি বলেন, ‘গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না।’
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেজ। বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি এবং গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কাজামীসহ অন্যরা।
এর আগে শফিকুর রহমান নিহত শিবির কর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি তাঁদের কবর জিয়ারত করেন।
Leave a comment