পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবারের সাথে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথেই প্রাণ হারালেন বাবা ও তার চার বছর বয়সী শিশু কন্যা। সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অজ্ঞাত একটি দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আনিছুর রহমান (৩৫) এবং তার চার বছর বয়সী কন্যাসন্তান আয়েশা খাতুন। এই ঘটনায় আনিছুর রহমানের স্ত্রী পুষ্পা আক্তার (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, নিহত আনিছুর রহমান রংপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’-এ কর্মরত ছিলেন। ঈদের লম্বা ছুটিতে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে সাথে নিয়ে নিজস্ব মোটরসাইকেলে করে রংপুরের কর্মস্থল থেকে পাবনায় নিজেদের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাদের মোটরসাইকেলটি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী মোড় সংলগ্ন মহাসড়কে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি অজ্ঞাত পরিচয়বাহী দ্রুতগতির গাড়ি তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেল আরোহী তিনজনই মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ার কারণে ঘটনাস্থলেই বাবা আনিছুর রহমান ও শিশু আয়েশার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল সকাল ৭টার দিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। একই সাথে গুরুতর জখম হওয়া পুষ্পা আক্তারকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হলেও হাইওয়ে ও থানা পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক যানবাহনটি দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থল এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঈদের আগমুহূর্তে এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও নিহতের গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a comment