ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন শিক্ষা খাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও সরকারের জবাবদিহিতার প্রশ্নেও বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত এই নাগরিক উদ্যোগের আন্দোলন ভবিষ্যতে মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবিসি বাংলার এক বিশ্লেষণে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার দিল্লির যন্তর-মন্তর এলাকায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। মেট্রো স্টেশন ও কয়েকটি সড়ক বন্ধ থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা যন্তর-মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সিজেপি। নামের সঙ্গে ‘পার্টি’ থাকলেও এটি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়; বরং একটি নাগরিক উদ্যোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তার বাইরে সংগঠনটি বাস্তবেও উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করেছে। বিশেষ করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের বড় অংশ এ আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
স্বাধীন সাংবাদিক স্মিতা শর্মা বিবিসি বাংলাকে বলেন, এ আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরা সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে শিক্ষা, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং তারা লিখিত স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন। তিনি আন্দোলন প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তবে এখন পর্যন্ত আন্দোলনের মূল দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কোনো ঘোষণা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরাও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবের মতে, এটি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দাবি নয়; বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের বৃহত্তর আন্দোলন।
বিশ্লেষকদের অভিমত, এই আন্দোলন তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনতে না পারলেও ভারতের তরুণদের অসন্তোষকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ফলে একে মোদি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a comment