স্পেন–আর্জেন্টিনা ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হলেও থামেনি ফিফাকে ঘিরে বিতর্ক। এবার বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া সমালোচনা করেছেন জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথেউস।
জার্মান সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট বিল্ড–এ প্রকাশিত নিজের কলামে ম্যাথেউস দাবি করেন, ‘ফুটবলকে অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছে ফিফা।’ একই সঙ্গে বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের সিদ্ধান্তকে তিনি ‘ফেয়ারপ্লে ও ফুটবলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ম্যাথেউস লেখেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনের পর ফিফা যেভাবে বালোগানের লাল কার্ড স্থগিত করল, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন সিদ্ধান্ত কখনোই হওয়া উচিত হয়নি। এটি ফেয়ারপ্লে এবং ফুটবলের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।’
তিনি আরও বলেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতি, ফুটবলের অতিরিক্ত আমেরিকাকেন্দ্রিক উপস্থাপন এবং বাণিজ্যিকীকরণ তাঁকে হতাশ করেছে।
হাইড্রেশন ব্রেক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ম্যাথেউস। তাঁর ভাষায়, ‘খেলোয়াড়দের ড্রিংকস ব্রেকের প্রয়োজন নেই। ফিফা ও টেলিভিশন সম্প্রচারকারীরা মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থেই এই বিরতিগুলো ব্যবহার করছে।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শো সম্পর্কেও আপত্তি জানান তিনি। ম্যাথেউস বলেন, ‘পরিবেশনা ভালো ছিল, কিন্তু হাফটাইমে কেন? এতে বিরতির সময় অযথা দীর্ঘ হয়েছে। এসব আয়োজন ম্যাচ শুরুর আগেই করা যেত।’
বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চ মূল্য নিয়েও সমালোচনা করেন জার্মান কিংবদন্তি। তাঁর মতে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সমর্থকদের জন্য টিকিটের দাম ছিল অত্যন্ত বেশি। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমার চিন্তাভাবনা কিছুটা রোমান্টিক শোনাবে, কিন্তু আমি চাই ফুটবল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক।’
কলামের শেষ দিকে রসিকতার সুরে ম্যাথেউস লেখেন, ‘শোনা যাচ্ছে, পরবর্তী বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৬৪ করা হতে পারে। তাহলে অন্তত ইতালি নিশ্চিতভাবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে!’
Leave a comment