রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর, লুটপাট ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িত অন্তত ৪০ জনের তালিকা তৈরি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযানও শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল শনিবার দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।
ডিবি সূত্র জানায়, প্রযুক্তিগত তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সরাসরি জড়িত ৪০ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুই ধাপে করা তালিকায় প্রথমে ২২ জনের নাম ছিল। পরে আরও ১৮ জনের নাম যুক্ত করা হয়।
সূত্রের দাবি, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মী। ঘটনার পর যাঁদের নাম আলোচনায় এসেছে, তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ হানিফও রয়েছেন। রাড্ডাকাণ্ডের পাশাপাশি মিরপুর এলাকায় দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
ডিবি জানায়, শনিবার ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার আলম পিয়াস এবং জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সহসভাপতি ও শাহআলী থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সাজ্জাদ হোসেন মিশু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, মিরপুরের শেওড়াপাড়া ও আমিনবাজার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের পর রাড্ডাকাণ্ডে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। তবে এত বড় ঘটনার পেছনে আরও কেউ নির্দেশদাতা ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল করা হয়। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকা শিশুদের টিকা কার্ডসহ বিভিন্ন নথি ও আসবাবপত্র লুটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
Leave a comment