সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাঁরা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হ্যামার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ৮ মিলিমিটারের পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, চারটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগানের ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেন তাঁরা।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সাতজন খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এবং পরের চারজন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা। সর্বশেষ ব্যক্তি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩৭ জন অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
সাব্বির আলম সুজন জানান, জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।
সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যুকে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
Leave a comment