র্যাব ও সেনাবাহিনীর ভুয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে পারভেজ ব্যাপারী (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পিরোজপুরের কাউখালী থানা ও বাগেরহাটের মোংলা থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে মোংলা পৌর শহরের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খুলনা সদর এলাকার কয়রা ২৩ নম্বর রোডের সাখাওয়াত ব্যাপারীর ছেলে।
কাউখালী থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মোংলা থানা-পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পারভেজকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারভেজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে র্যাব ও সেনাবাহিনীর মেজর, কর্নেলসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে পিরোজপুরের এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন ও ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে দীর্ঘদিন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তাঁরা অবস্থানও করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি পারভেজের প্রতারণার বিষয়টি ওই কিশোরীর পরিবারের কাছে প্রকাশ পায়। এরপর ভুক্তভোগীর মা নিলুফা বেগম বাদী হয়ে কাউখালী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর পারভেজ খুলনা থেকে পালিয়ে মোংলায় আত্মগোপন করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে মোংলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পারভেজকে পিরোজপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একই কায়দায় একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Leave a comment