তিরিশ বছর আগের আজকের দিনে বিএফডিসিতে ‘সুখের ঘরে দুখের আগুন’ সিনেমার শুটিং করছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। ঠিক তখনই একজন প্রোডাকশন বয় এসে তাঁকে জানায়-স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ আর নেই! আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক এই তথ্য কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না মৌসুমী। খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি দিয়ে পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজারকে সালমানের ইস্কাটনের বাসায় পাঠান তিনি। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জনপ্রিয় এই চিত্রনায়িকা।
আজ ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ৩০ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৯৬ সালের এই দিনে ঢাকার নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাঁর মৃত্যু হয়। দিনটিকে স্মরণ করে চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক মুশফিকুর রহমান গুলজার এক আবেগঘন স্মৃতিচারণে জানান, সেদিন এফডিসির কড়ইতলায় সিনেমার সেটে যখন খবরটি আসে, তখন মেকআপ রুমে ছিলেন মৌসুমী। প্রিয় সহশিল্পীর প্রয়াণের খবর শুনে পুরো বিএফডিসি স্তব্ধ হয়ে যায়। মৌসুমীর পাঠানো গাড়িতে চেপে গুলজার দ্রুত ইস্কাটনের বাসায় এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে সালমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন।
এফডিসিতে ফিরে যখন সেই মর্মান্তিক বার্তা দেওয়া হয়, তখন কেঁদে আকুল হন মৌসুমী। সহকর্মীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেদিন তাঁর জন্য আবেগ সামলানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। কারণ, সেই সময় তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তাঁর গর্ভে ছিল প্রথম সন্তান ফারদিন। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উপস্থিত সবাই তাঁকে সামলে রাখেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিপ্রাপ্ত সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ ও মৌসুমী দুজনেরই চলচ্চিত্রে একযোগে অভিষেক ঘটেছিল। প্রথম ছবিতেই আকাশচুম্বী সাফল্য পাওয়া এই জুটি পরবর্তীতে ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘স্নেহ’ ও ‘দেনমোহর’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রের সোনালী ইতিহাসের এই ট্র্যাজেডি আজ তিন দশক পরও ঢাকাই সিনেমার বাতাসে এক গভীর শোকের আবহ তৈরি করে।
Leave a comment