বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত মার্চ থেকে জুন—এই তিন মাসেই নতুন করে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সুদের হার অব্যাহতভাবে যুক্ত হওয়া এবং অনেক গ্রাহক পুনর্গঠনের শর্ত অনুযায়ী ডাউন পেমেন্ট দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই পাহাড়সম বকেয়া তৈরি হয়েছে।
বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও বিভিন্ন বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী-যেমন এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, নাসা ও সিকদার গ্রুপের নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ খেলাপিতে পরিণত হওয়াকে এই মহাধসের অন্যতম মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট আর্থিক ভঙ্গুরতা সামাল দিতে ইতোমধ্যে সরকার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের অধীনে এনেছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এককালীন ‘এক্সিট নীতি’ ও পুনঃতফসিলের মতো সুবিধা দেওয়া হলেও ব্যাংকগুলো কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাচ্ছে না।
পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ঋণের মেয়াদ বাড়লেও নিয়মিত সুদ যুক্ত হতে থাকায় খেলাপি ঋণের অঙ্ক ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান ও একাধিক বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা বলছেন, খেলাপিদের ধরন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি আংশিক ছাড় ও সময় না দিলে এই ঋণ আদায় করা দুষ্কর হয়ে পড়বে। প্রথাগত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণের প্রতি জোর দেন তাঁরা।
তবে বারবার এসব নিয়ন্ত্রণমূলক সুবিধা দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বারবার নীতিগত ছাড় দেওয়ার ফলে বাজারে ভুল বার্তা যাচ্ছে এবং খেলাপিরা আরও সময় পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দ্রুতই কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা না দিলে দেশের সামগ্রিক অর্থব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
Leave a comment