পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে সব ধরনের কর, ভ্যাট ও শুল্ক মওকুফের আবেদন করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ‘রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস’। এই বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠির সঙ্গে সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর ভিজিটিং কার্ড যুক্ত করার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আবেদনটি করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রতিমন্ত্রীর ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত।
বগুড়ার শিবগঞ্জে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি ফোর্টিফাইড রাইস কার্নেল বা পুষ্টি উপাদান উৎপাদনে নিয়োজিত। রূপসী রাইস মিলসের দাবি, দেশে প্রিমিক্স বা ভিটামিন-মিনারেল মিশ্রণ তৈরির কারখানা তারা স্থাপন করেছে। ভিটামিন-এ, আয়রন, জিঙ্কসহ প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো আলাদাভাবে আমদানিতে করছাড় বা বিশেষ রেয়াত সুবিধা পেলে প্রিমিক্সের উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাবে। ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল ও আটার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
তবে সরকারি পদের অপব্যবহার করে নিজস্ব ব্যবসায়িক সুবিধা হাসিলের এ চেষ্টাকে রাষ্ট্রীয় নীতি ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বে থেকে স্বজনপ্রীতি বা ক্ষমতার এমন চর্চা স্পষ্ট স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এনবিআরের প্রতি কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান তিনি।
এনবিআরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের মতে, কোনো একক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে শুল্ক-কর ছাড় দেওয়ার আইনি সুযোগ সংবিধানে নেই। ছাড় দিতে হলে পুরো খাতের জন্য দিতে হবে। উল্লেখ্য, এই বিতর্কিত সুবিধার বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিমন্ত্রীর ছেলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন এবং খুদে বার্তারও কোনো সাড়া দেননি। এনবিআর জানিয়েছে, আবেদনটি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
Leave a comment