যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ আরও তীব্র করে তুলেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা চিত্রায়িত করে একটি তিন মিনিটের আতঙ্কজনক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের ওপর নজিরবিহীন ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতির আবহেই এই ঘটনা সামনে এলো।
ইউরোনিউজের অনুবাদ করা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ‘কোথায় ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যা করা হবে’ শীর্ষক ওই প্রচারচিত্রে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্টের ছেলের প্রতিটি ব্যক্তিগত গতিবিধির ওপর তাঁদের ‘পূর্ণ নজরদারি’ রয়েছে। ভিডিওটিতে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির কন্সট্যান্স মিলস্টেইন অ্যান্ড ফ্যামিলি গ্লোবাল একাডেমিক সেন্টারের ডরমিটরির দৃশ্যসহ ব্যারন ট্রাম্পের গেমিং ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম—যেমন এক্সবক্স, ফিফা গেম ও ডিসকর্ড অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার দাবি করা হয়েছে। এমনকি তাঁর দুজন সহপাঠীর পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওর শেষভাগে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট মিডিয়াগুলোর পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, “এটি কেবল শুরু! ব্যারন ট্রাম্প, আমাদের জন্য অপেক্ষা করো!”
এই খবরের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, তেহরান ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার বিনিময়ে ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো এই পুরস্কারের ঘোষণা ও ব্যারনের গতিবিধি সম্পর্কিত দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, এর আগেও মে মাসের শেষদিকে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংস্থা মেলানিয়া ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মোটরকেডের রুট নিয়েও উসকানিমূলক ভিডিও প্রচার করেছিল। ২০২০ সালে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানির মৃত্যু এবং সাম্প্রতিক সময়ের তীব্র রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ পরিকল্পনার ধাক্কায় ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন ঘটেছে (বর্তমানে প্রতি ডলারের মান প্রায় ১৫ লাখ রিয়াল), যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরান এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a comment