রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে দেখানো ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার হিসাব বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তাঁর দাবি, সামগ্রিক ব্যয়ের কথা বলে জিএস মূলত নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ছাত্রশিবিরের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, রাকসুর জিএস দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। এর ব্যাখ্যায় আপ্যায়ন ও যাতায়াত খাতে ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু শুধু যাতায়াত ও আপ্যায়নে এত বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়েছে—এমন দাবি অবাস্তব। শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেবেন না।
তিনি আরও বলেন, শিবির-সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্যানেল থেকে নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব ও জবাবদিহি চেয়েছেন। তাঁদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ, মিডিয়া ও প্রকাশনা, তথ্য ও গবেষণা, মহিলা বিষয়ক এবং সাহিত্য ও বিতর্ক—এই ছয়টি দপ্তরে মোট প্রায় ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
মুজাহিদ ফয়সালের দাবি, ক্রীড়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের ব্যয় হিসাবের আওতায় আনলেও সেখানে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। ফলে জিএসের দেওয়া ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার সামগ্রিক হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত নন। ফলে তাঁর কর্মকাণ্ডের কোনো দায়ভার ছাত্রশিবির নেবে না। তবে তাঁদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন বহন করবে।
শিবির সভাপতির বক্তব্যের বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, মুজাহিদ ফয়সাল রাকসুর সদস্য নন। তিনি কোথা থেকে এসব তথ্য পেয়েছেন, সেটি তাঁকেই জিজ্ঞাসা করা উচিত। সব তথ্য-প্রমাণ, নথি ও ভাউচার পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।
আম্মার বলেন, রাকসুর বিধান অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক সংসদের হিসাব পরিচালনা করেন এবং কোষাধ্যক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন। অর্থ উত্তোলনের সময় সেটি সংসদের দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাই পুরো হিসাব প্রকাশের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, তাঁর দায়িত্বের মেয়াদের আরও প্রায় আড়াই মাস বাকি রয়েছে। তাই এখনই সম্পূর্ণ ব্যয়ের হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়। নির্ধারিত সময় শেষে ভাউচারসহ সব হিসাব প্রকাশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রাবি শাখা ছাত্রশিবির পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করা এবং পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা।
এর আগে গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচের কথা জানিয়েছিলেন।
Leave a comment