উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর সমপরিমাণ মার্কিন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।
মঙ্গলবার কানাডা এ ঘোষণা দেয়। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে শনিবার কানাডার পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর হয়।
দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিন ধরে শুল্কসংক্রান্ত সংকট সমাধানে আলোচনা চলছিল। তবে গত শুক্রবার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তি কানাডার জন্য অন্যায্য ও অলাভজনক ছিল। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন প্রস্তাব দেশটির অটোমোবাইল, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর জবাবে কানাডা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ৭০০টি মার্কিন পণ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেছেন, এটি কানাডার জন্য নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ। তবে পরিস্থিতির উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না চললে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশটির গাড়ি ও অটো পার্টসের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
পাল্টাপাল্টি শুল্কের পাশাপাশি কানাডার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ কমানো বা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব দেওয়াসহ ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্য ও শুল্কনীতির কারণে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও চাপ তৈরি হয়েছে।
Leave a comment