একটি আধুনিক মোবাইল ফোন কেনার সাময়িক আনন্দ যে শেষ পর্যন্ত জীবনের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি দিল্লির বাসিন্দা দীপক কুমার। অতিরিক্ত ঋণের বোঝা এবং বিলাসী পণ্যের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই শোধ করতে না পেরে চরম হতাশায় শুক্রবার রাতে যমুনা নদীতে ঝাঁপ দেন এই যুবক। তবে টহলরত পুলিশের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে শেষ পর্যন্ত অলৌকিকভাবে প্রাণ বেঁচে গেছে তার।
পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জ এলাকার ভোলা ঘাটে রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ওখলার বাসিন্দা দীপক পেশায় একজন নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যশিক্ষক। নিজের পেশার পাশাপাশি সংসার চালানোর জন্য তিনি বাগানে মালির কাজও করতেন। কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে তার আয় নাটকীয়ভাবে কমে যায়। আয় কমলেও আইফোনের কিস্তির মাসিক চাপ কমেনি, যা মেটাতে না পেরে তিনি তীব্র মানসিক অশান্তি ও বিষণ্নতায় ভুগছিলেন।
ঘটনার দিন রাতে কালিন্দী কুঞ্জ এলাকায় টহল দেওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা দীপককে যমুনার জলে ঝাঁপ দিতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অনুধাবন করে তারা দ্রুত উদ্ধারকারী দলকে খবর দেন। নদী তীরবর্তী থকথকে জল ও কাদার মধ্য থেকে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তাকে উদ্ধার করে ডাঙায় তোলা হয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মানসিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। উদ্ধার পাওয়ার পর তাকে স্ত্রী ও শ্যালকের জিম্মায় বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আধুনিক জীবনযাত্রার প্রতিযোগিতায় আইফোনের মতো বিলাসী সামগ্রী কিস্তিতে কেনার ঝোঁক সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এবং উপার্জনের সামঞ্জস্য না থাকায় এমন ঘটনা সমাজে এক উদ্বেগের বার্তা দিচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রেও একইভাবে আইফোনের কিস্তির টাকা দিতে না পেরে এক যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা-মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। সময়মতো পুলিশের হস্তক্ষেপ দীপকের জীবন রক্ষা করলেও, কিস্তির ঋণের ফাঁদে পড়া মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য আজ এক বড় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে।
Leave a comment