রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। রংপুরের দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে গতকাল গভীর রাতে পরম অশ্রু আর হৃদয়বিদারক পরিবেশে পর্যায়ক্রমে চারজনের দাহকাজ সম্পন্ন করেন স্বজনরা। এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ভয়াবহ এই চার খুনের ঘটনায় জড়িত দুই ঘাতক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তারা দুজনই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিশদ বিবরণ প্রদান করে। পরবর্তীতে বিচারক আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশি ব্রিফিং ও আসামীদের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে মাদক সেবন করছিল দুই যুবক সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী তাতে বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতকরা তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এই খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে পুরো পরিবারকে নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টার শব্দ শুনে তার স্ত্রী সিঁড়িতে এগিয়ে এলে তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করা হয়। মায়ের চিৎকার শুনে ২৫ বছরের মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে অপরাধীরা। সবশেষে নিচে নেমে জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছোট্ট শিশু আয়ুশকেও বালিশ চাপা দিয়ে ও কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে তারা পালিয়ে যায়।
শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে এই চার স্বজনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্রে একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় শিক্ষক ও তার পরিবারের এমন নির্মম পরিণতিতে পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের স্বজনরা ঘাতকদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a comment